অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও বিশ্ববিবেক

FB_IMG_14794917441034458

বিগত কয়েকদিন থেকে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি ‘। সধারনত ফেসবুকে লেখালেখি করিনা। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশি মুসলিম রোহিঙ্গাদের করুন আর্তনাদ,আমার বিবেককে নাড়া দিচ্ছে বারবার। তাই না লিখে পারলাম না।

যে বৌদ্ধরা বিশ্বশান্তির কথা বলে,জীব হত্যাকে মহাপাপ বলে গন্য করে, তারাই মায়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর বর্বরতম অত্যাচার করছে। যাকে আমারা এতদিন গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসাবে জানতাম সেই অং সান সুচি ও আজ ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। বিগত সাত মাস ধরে তার দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্ষমতাসীন। সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ আশায় বুক বেধেছিল এবার হয়তো মায়ানমারে সুষ্ঠ গণতন্ত্র ফিরে আসবে, বন্ধ হবে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন। কিন্তু শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচিও এবার নিশ্চুপ,তাহলে এটা বুঝতে কারো বাকি থাকে না যে, তিনি ও তার দলও চায় মুসলিমদের সে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে।
লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষ আজ গৃহহীন, সামান্যতম মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে ন্যাড়া বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা, তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সে দেশের কাপুরুষ সামরিক বাহিনী। নিরীহ মুসলিম শিশু ও ধর্ষিত মা বোনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে আরাকানের আকাশ বাতাস। আমাদের মুসলিম ভাইদের তাজা রক্তে লাল হয়ে উঠেছে আরাকান ভূখন্ড। পালোনোর সময় পর্যন্ত পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে তাদের। এই আশ্রয়হীন অসহায় মানুষগুলো যখন মাছ ধরা ট্রলারে করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছে, তখনও তাদের পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তাহলে কি তারা সাগরে ডুবে মরবে! অনাহারে, অনিশ্চয়তায়, অনিদ্রায় উত্তাল সমুদ্রের মাঝে ভেসে বেরাচ্ছে আমাদের মজলুম মুসলিম ভাইয়েরা।
এটাই কী তথাকথিত বিশ্ববিবেক??? সারা পৃথিবির বিশ্ব নেতারা মুখে কুলুপ এটেছেন,যেন কিছুই জানেন না। জাতিসংঘসহ অন্যান্য মোড়ল প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র প্রতিবাদ জানিয়েই নিজেদের দায় সারছে। কিন্তু কেন?

মুসলিম বলেই কি তাদের ক্ষেত্রে ‘মানবাধিকার ‘ শব্দটি অভিধানে পাওয়া যাচ্ছে না? তাহলে ধিক্কার জানাই সে সকল মেকি মোড়লদের। সারা পৃথিবীর তাগুদ শক্তি ও কিছু সংখ্যক বেহায়া মিডিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিশ্ববাসীকে ভুল ধারনা দিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদিদের পথের প্রধান বাধা যেন মুসলিমরাই । এই সমস্যা সমাধান মুসলিমদের নিজেদেরই করতে হবে। তা না হলে হয়ত কোন একদিন আমাদের মাতৃভুমিও এই নরপশুদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
মূলকথায় ফেরা যাক,বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিষ্পাপ শিশু, ধর্ষিত মা বোন সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করে বলছে, “হে প্রভু, আপনি আমাদের এই জালিম অধ্যূষিত জনপদ হতে উদ্ধার করুন। আমাদের জন্য ত্রানকর্তা বা সাহায্যকারী প্রেরণ করুন”। কিন্তু দু:খের বিষয় ১৫০ কোটি মুসলমানের কর্ণকুহরে তাদের আর্তনাদ হয়ত যাচ্ছেনা। আমরা আজ আমাদের দায়িত্ববোধ ভুলতে বসেছি।
কিন্তু কিছুটা আশার বিষয় হলো বিগত সময়ে আমাদের বাংলাদেশ সরকার অসংখ্য রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল ও ছোটদেশ, আমাদের সামর্থ্য হয়ত কম। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী হিসাবে হলেও আমাদের ভূখন্ডে তাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়া উচিত। তাদের বিপদের সময় আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত আবেদন যে,মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো, পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দ্বিতীয় বারের মত সাময়িক আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে উপস্থাপন করা এবং কূটনৈতিক ভাবে মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কতটা মানবিক তা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেওয়ার সময় এখনই।
পরিশেষে, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, আপনি অত্যাচারিত মুসলিমদের উপর সাহায্য বর্ষন করুন এবং উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে বিশ্বকে নিরাপদ রাখুন।

শেখ শোভন , ছাত্র;
আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Share Now

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on pocket
Share on email

Write a Comment