মাদক, ছাত্রসমাজ ও নতুন সিদ্ধান্ত

11
Penny wise, Pound foolish
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো
ছোটবেলায় পড়ে আসা প্রবাদবাক্যটা মনে পড়ে গেলো। কেন হঠাৎ এই প্রবাদ মনে পড়লো? বর্তমানের অবস্থাটাই প্রবাদতুল্য হয়ে গেছে। তবে এই প্রবাদ মনে পড়ার পেছনে  কারণটা হচ্ছে, কিছুদিন আগে আমাদের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, ধুমপায়ী বা মাদকাসক্ত কোন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবেনা।
হ্যা খুবই ভালো কথা। অনেকেই চোখ বন্ধ করে সাধুবাদ জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্তে। আমিও জানিয়েছি। দেখেছি কেউ কেউ আবার চোখ বন্ধ করতে গিয়ে গাল, মুখ-মন্ডল, কপালের চামড়া কুঁচকে ফেলেছেন। যাইহোক, কে চোখ বন্ধ করলো আর কে করলোনা সেটা নিয়ে ফ্যাচফ্যাচ করে লাভ নেই। বরং প্রসঙ্গে আসা যাক,
মানবীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে শুরুতেই একটা প্রশ্ন মাথায় চলে আসে, সেটা হলো এই নিয়মটা কতটুকু কার্যকর হবে? নাকি আদৌ হবেইনা?
আপনি হয়ত আমার এই ধরনের কথায় ক্ষেপে যেতে পারেন যে, বলে কি এই বদ ছেলে? কত সুন্দর নিয়ম! কেন কার্যকর হপেনা?
তো মশাই আপনাকেই বলি, আপনি জানেন কি? মন্ত্রীমশাই কি বলেছেন? উনি বলেছেন যে, পরীক্ষায় পাশের পর মেডিকেলে  ভর্তির জন্যে অধুমপায়ী সার্টিফিকেট একজন ডাক্তারের কাছে সত্যায়িত করে নিয়ে জমা দিতে হবে। মোদ্দাকথা, শিক্ষার্থী যে ধুমপায়ী বা মাদকাসক্ত নয় তার সত্যায়িত সার্টিফিকেট জমা দিতেই হবে। নতুবা ভর্তি হতে পারবেনা।
হ্যা। এটি নিঃসন্দেহে মহৎ সিদ্ধান্ত। কেননা যে কিনা নিজেই শরীরে নিকোটিন বয়ে নিয়ে বেড়ায় সে অন্যকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার অধিকার রাখেনা।
এবার আপনি বলবেন যে ঠিকই তো আছে, এত চুলকানোর দরকার কি?
কিন্তু আমি বলি চুলকানীর দরকার আছে। কারণ, মাত্র ২০০ বা ৩০০ টাকায় ওরকম সত্যায়িত করা সার্টিফিকেট আমাদের এই বঙ্গদেশে কেজিদরে পাওয়া যায়। এটা খুব দুরুহ কোন কাজ নয়।
দেখবেন আগামী শিক্ষাবর্ষে যারা চান্স পাবে মেডিকেলে তারা সবাই হাতে একখানা সত্যায়িত সার্টিফিকেট নিয়ে হাজির হবে ভর্তি হবার জন্যে। তারমানে কি ওদের মধ্যে কেউ মাদকাসক্ত বা ধুমপায়ী থাকবেনা? থাকবে, ঢের থাকবে। কিন্তু আপনি কিচ্ছুটি টের পাবেননা। পেলেও কিছু বলতে পারবেননা। হাতে ওদের সার্টিফিকেট আছেনা! তাও আবার সত্যায়িত!
কাজেই দেখা যাচ্ছে এই নিয়মের মধ্যে ফাক রয়ে গেছে। আশা করি এই ফাক সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগণ অতি শীঘ্রই বন্ধ করে ফেলবেন। ধুমপায়ী শনাক্তকরণের জন্যে সত্যায়িত সার্টিফিকেট পদ্ধতির চেয়ে যদি ভর্তির সময় শিক্ষার্থীকে ওখানেই তৎক্ষণাৎ চেকআপ করা হয় তাহলে আর কেউ ফাকি দিতে পারবেনা। হ্যা এতে সময় একটু বেশি লাগবে। লাগুকনা! যে মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে সেটিতো যথাযথ কার্যকর হবে।
আর কোন শিক্ষার্থী ভর্তির পর মাদকাসক্ত হলো কিনা? সিগারেট পান করলো কিনা সেটা তদারকির জন্যে নির্দিষ্ট কয়েকদিন পরপর চেকআপ করতে হবে। আমি মনে করি তবেই যথাযথ হবে এই সিদ্ধান্ত।
মাদকের ভয়াল থাবার হাত থেকে বেচে যাবে আমাদের এই মেধাবী প্রজন্মের সিংহভাগ শিক্ষার্থী।
এবার শুধু মেডিকেলের জন্যে এই নিয়ম। আশাকরি পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর করা হবে।
তারপর নাহয় কলেজগুলোর দিকেও নজর দেয়া যাবে। কি বলেন?

Share Now

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on pocket
Share on email

Write a Comment